নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬ | 0 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা দরপতনের ফলে আজ (০২ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দিন যত এগোচ্ছে, বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের হতাশাও তত বাড়ছে। এর মধ্যেও দরপতন রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিও বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, এভাবে একটি দেশের শেয়ারবাজার চলতে পারে না। বাজারে উত্থান-পতন থাকবেই, তবে তা সময়ের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বর্তমানে ডিভিডেন্ড মৌসুম চলার মধ্যেই বাজারের এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না। ইতিমধ্যে প্রায় তিন শতাধিক কোম্পানি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে অনেক কোম্পানি উল্লেখযোগ্য হারে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। অথচ সেই কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ডের ভিত্তিতে বাজার স্থিতিশীল না হয়ে বরং অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দিন যত যাচ্ছে, বাজারের অবস্থাও তত তলানির দিকে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যাবে। এরপরও দরপতনের কারণ খতিয়ে দেখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো উদ্যোগ নেই, যা বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ধারাবাহিক দরপতন ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো উদ্যোগ নেই কেন, তা তারা বুঝতে পারছেন না। তারা মুখে কেবল বাজার সংস্কারের উদ্যোগের কথা বলছেন। বাজার যদি লেনদেন উপযোগী না হয়, তবে উদ্যোগ ও সংস্কার দিয়ে কী হবে? বর্তমানে যেভাবে দরপতন হয়েছে, তাতে নতুনভাবে শেয়ার কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বর্তমান কমিশনের পদত্যাগ করা উচিত।
এদিকে আজ (০২ নভেম্বর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেনও কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫১.৫৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৩৩.৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে চলতি বছরের ২৩ মে সূচকটি ৫ হাজার ৩২৮.৩৫ পয়েন্টে ছিল। আজ অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৮.১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৭.৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক ২৬.২৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৪২.১৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টির দর বেড়েছে, ২৪৯টির দর কমেছে এবং ৫১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইতে এদিন প্রায় ৪১৮ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৪৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন কমেছে প্রায় ৬৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
এদিকে অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।
আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৭৬টির, কমেছে ৮৭টির এবং পরিবর্তন হয়নি ১৯টির।
এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০৪.৬০ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৩৮৯.৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন সূচকটি ৮২.০১ পয়েন্ট কমেছিল।
Posted ৩:৩৩ পিএম | সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.